ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা-লুটপাট: শান্তি ফেরানোর আহ্বান ম্যাক্রোঁর

আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১১:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১১:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা-লুটপাট: শান্তি ফেরানোর আহ্বান ম্যাক্রোঁর ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা,লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায়  অগ্নিসংযোগ  ঘটনায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। স্থানীয় সময় শনিবারের (১৭ অক্টােবর) ব্যাপক বিক্ষোভের পর রোববারও (১৮ অক্টােবর) প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসির। 
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শুরুতে অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল গাড়ি ও ভবনে আগুন দেয়, দোকানপাটে লুটপাট চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবি এবং যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের আলাদা করে দেখতে হবে। সহিংসতার কোনো যুক্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সহিংসতায় লিমোজ শহরের ১৯ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির ছাদ ও ঘড়ির টাওয়ার ধসে পড়ে। প্যারিস, মার্সেই ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রোববার প্যারিস ও লিওঁর কিছু এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়ে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের শুরু করা আন্দোলনে শনিবার শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য সরকারবিরোধী গোষ্ঠী যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের অভিযোগ, কট্টর বামপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সরকারি স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকার ও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেন অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি মানুষের ক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ